জুলাই ২০১৬ ঢাকা আক্রমণ

জ্ঞানীপিডিয়া থেকে
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৮′০৯″ উত্তর ৯০°২৫′০০″ পূর্ব / ২৩.৮০২৫১২° উত্তর ৯০.৪১৬৬৯০° পূর্ব / 23.802512; 90.416690
Fatal error: The format of the coordinate could not be determined. Parsing failed.


টেমপ্লেট:তথ্যছক বেসামরিক আক্রমণ

১ জুলাই ২০১৬, স্থানীয় সময় রাত ০৯:২০ মিনিটে,<ref name="BBC1">"Gunmen take hostages in Bangladeshi capital Dhaka"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-০৭-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৭-০১ </ref> নয়জন হামলাকারী ঢাকার গুলশান এলাকায় অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে গুলিবর্ষণ করে।<ref name="rt">"Gunmen take at least 20 hostages in Dhaka diplomatic quarter, Bangladesh - reports"rt.com (ইংরেজি ভাষায়)। রাশিয়া টুডে। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৬ </ref><ref name="fox">"Hostages taken in attack on restaurant in Bangladesh capital; witness says gunmen chanted 'Allahu Akbar'"foxnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। Fox News। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৬ </ref> হামলাকারীরা বোমা নিক্ষেপ ও কয়েক ডজন মানুষকে জিম্মি করে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলি ও বোমাবর্ষণের ফলে অন্তত চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়।<ref name="rt"/> <ref>"Bangladeshi police prepare to storm restaurant where Islamist terrorists are holding 20 hostages – including foreigners – after shooting two officers dead in Dhaka"। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৬Worker who escaped reported gunmen shouted 'Allahu Akbar' as they fired </ref> এই ঘটনায় মোট আটাশ জন মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে সতেরো জন বিদেশী, দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ছয় জন বন্দুকধারী।<ref name="আলো"/><ref>"Hostage crisis leaves 28 dead in Bangladesh diplomatic zone"The Washington Post। ২ জুলাই ২০১৬। </ref><ref>"20 foreigners killed in 'Isil' attack on Dhaka restaurant"। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> পরবর্তীতে বন্দুকধারীদের এক জনকে বন্দী করা হয় এবং ১৩ জন জিম্মিকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এবং যৌথবাহিনী কর্তৃক মুক্ত করা হয়।<ref name=":0">"Police kill 6 militants, rescue 13 hostages in Dhaka attack"Boston Globe। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref><ref name="এনটিভি">"গুলশান হামলায় এখনো ৭ জাপানি নিখোঁজ"এনটিভি। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref>

পটভূমি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

২০১৩ সাল থেকে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ব্লগার এবং ধর্মনিরপেক্ষদের উপর হামলা বাড়তে থাকে।<ref>"Sufi Muslim leader found hacked to death in a Bangladesh mango grove in suspected Islamist killing"The Daily Mail। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৬ </ref><ref>"Muslim student killed in Dhaka siege after refusing to desert friends in Western clothes"The Independent। ৩ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৬ </ref> সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল থেকে, এদেশে এই ধরনের ৩০টি আক্রমণের ঘটনা ঘটে; আইএসআইএস (যা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড আল-শাম বা দায়েশ নামেও পরিচিত) যার মধ্যে ২১টির দায় স্বীকার করে।<ref>"ISIL claims it killed Hindu volunteer in Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। Al Jazeera। জুন ১১, ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১, ২০১৬ </ref><ref>"গুলশান হামলায় আইএস এর দায় স্বীকার !"এটিএন২৪অনলাইন। ২ জুলাই ২০১৬। ২ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> গুলশান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং এখানে অনেক বিদেশী দূতাবাস অবস্থিত।<ref name="fox" />আর গুলশান ঢাকার একটি গুুরুত্বপূর্ণ এলাকা।এখানে বাংলাদেশি মুসলমানদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশী নাগরিক এবং অমুসলিমরা বসবাস করে এবং অবস্থান করে। তাই উগ্রবাদী জঙ্গিরা ইসলামের দোহাই দিয়ে এই এলাকাটিকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা চালায় যা ইসলামের দৃষ্টিতেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি এক ধরনের মারাত্মক অপরাধ।

আক্রমণ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Multiple image

আক্রমণ স্থানীয় সময় ৯টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হয়। অন্তত সাতজন হামলাকারী রেস্টুরেন্টে বোমা, বন্দুকসহ প্রবেশ করে এবং একজন আক্রমণকারীর হাতে একটি তলোয়ার ছিল। ঢোকার পর রেস্টুরেন্টে জিম্মি করার আগে গুলি ছুড়তে থাকে ও বোমা ফাটায়, জিম্মিদের বেশীরভাগ ছিল বিদেশী। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সাথে তাদের গোলাগুলি হয়, এতে দুই জন পুলিশ নিহত হয় ও আরো অনেক আহত হয়। পরে পুলিশ রেস্টুরেন্ট সহ পুরো এলাকা ঘেরাও করে রাখে এবং একটি উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করে।<ref>"গুলশানে চূড়ান্ত অভিযানের অপেক্ষা"চ্যানেল আই। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]</ref> এ সময় পুলিশ মাইকে বারবার জিম্মিদের ছেড়ে দিয়ে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে জঙ্গিরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনটি শর্ত দেয়:<ref>"গুলশান হামলাকারীদের তিন শর্ত"চ্যানেল আই। ৩ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref>

  • ডেমরা থেকে আটক জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহকে মুক্তি দিতে হবে।
  • তাদেরকে নিরাপদে বের হয়ে যেতে দিতে হবে।
  • ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের এই অভিযান- স্বীকৃতি দিতে হবে।

রেস্টুরেন্টে ভিতর থেকে ছবি টুইটারে আইএসআইএল-পন্থী অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রচার হয় এবং এতে কয়েকটি লাশ ও রক্তের দাগ মেঝের উপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।<ref name="rt"/>

উদ্ধার অভিযান[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সরকার প্রধানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' পরিচালনা করে। ৬ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থানরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব অপারেশন থান্ডারবোল্ট পরিচালনা করে। সেনাবাহিনীর 1 নং প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়ন এর নেতৃত্বে ঘটনা শুরুর পরদিন, শনিবার, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু করে ১২-১৩ মিনিটে ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অপারেশন থান্ডারবোল্ট সফল হয় আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ নং প্যারা কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন এর এই অপারেশন পেশাদার ও প্রশংসনীয় হয় এবং যৌথ বাহিনী হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয়।ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৪টি পিস্তল, একটি ফোল্ডেডবাট একে-২২, ৪টি অবিস্ফোরিত আইআইডি, একটি ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।<ref>"গুলশানে জিম্মি উদ্ধার অভিযান: ঘটনাক্রম"বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref>

হতাহত[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বিশ জন বিদেশী নাগরিক, ছয় জন বন্দুকধারী এবং দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার রাতেই নিহত হন। বিদেশীদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। যেখানে আরও পঞ্চাশ জন, যাদের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য,<ref name="বাংলা-প্রতিদিন">"সন্ত্রাসী হামলায় ওসি সালাহ উদ্দীন নিহত"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> আহত হন।<ref name="IANS"/><ref name="ispr_brief">"Dhaka attack: 20 hostages killed Friday night, says ISPR"The Daily Star। ২ জুলাই ২০১৬। </ref> নিহতদের মধ্যে দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, যাদের একজন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার এবং অন্যজন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।<ref name="bdnews24-1">"Police officer killed as gunmen attack Bangladesh restaurant"BDNews24। ২ জুলাই ২০১৬। </ref><ref name="people">"2 Officers Dead, Dozens Wounded in Ongoing Bangladeshi Hostage Situation: Reports"People Magazine। ১ জুলাই ২০১৬। </ref><ref>"রেস্তোরাঁ থেকে ২০ মৃতদেহ উদ্ধার: আইএসপিআর"প্রথম আলো। ২ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> নিহতদের মধ্যে জাপানি ও ইতালীয় নাগরিক ছিল।<ref name="rt" /> ১৯ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়।<ref>"Dhaka attack: 19-year-old Indian girl among 20 hostages killed, PM Modi phones Sheikh Hasina"Zee News। ২ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করে যে নিহতদের সকলে বিদেশী ছিল এবং অপরাধীরা জিম্মিদের "ধারালো অস্ত্র দ্বারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল"।<ref name="ispr_brief"/> এদের মধ্যে যারা কুরআন থেকে একটি আয়াত বলতে পেরেছিল শুধুমাত্র সেসকল অ-মুসলিমরা রক্ষা পেয়েছিল।<ref>"'Those who could cite Quran were spared'"। The Daily Star। ২ জুলাই ২০১৬। </ref><ref>"20 hostages killed in 'Isil' attack on Dhaka restaurant popular with foreigners"। The Daily Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> পরে মৃতদেহগুলির মাঝে বেকারির একজন শেফের লাশ শনাক্ত করা হয়। ৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে বেকারির একজন আহত কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান

নিহতদের মধ্যে সাত জন জাপানি নাগরিক ছিল – পাঁচ জন পুরুষ এবং দুই জন নারী – যাদের জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির সাথে যুক্ত ছিল। সেই সময় নারীদের মধ্যে একজন গর্ভবতী ছিলেন।<ref name="japanese">"「日本人7人死亡確認」 バングラデシュ人質事件" [বাংলাদেশে জিম্মির ঘটনায় 'সাত জাপানির মৃত্যু নিশ্চিত'] (জাপানি ভাষায়)। NHK। ২ জুলাই ২০১৬। ২ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref> তরিশি জৈন, ভারতীয় জাতীয়তার, বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী ছাত্রীকেও হত্যা করা হয়।

নিহত জিম্মিদের জাতীয়তা
দেশ সংখ্যা
টেমপ্লেট:Flagu ৯<ref name=":0" />
টেমপ্লেট:Flagu ৭<ref name=":0" />
টেমপ্লেট:Flagu ৭<ref name=":0" />
টেমপ্লেট:Flagu ১<ref name=":0" />
সর্বমোট ২৪<ref name="A">"নিহতদের মধ্যে ১৭ বিদেশি, ৩ বাংলাদেশি"প্রথম আলো। ২ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref><ref>Ishaan Tharoor (জুলাই ২, ২০১৬)। "Three American students among 20 people hacked to death in Bangladesh by ISIS terrorists - who only spared those who could recite the Koran - before armored troops moved in"। The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২, ২০১৬ </ref>

মৃতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:<ref name="bdnews 5Jul"/><ref name="bbc 6Jul"/><ref name="P alo 8Jul"/><ref name="autogenerated1">"Bangladesh mourns victims of Dhaka café attack"BBC News। ৩ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৬ </ref><ref>"バングラデシュで亡くなった7人 政府が氏名公表" [Japanese government disclosed the names of seven victims killed in Bangladesh]। NHK। ৫ জুলাই ২০১৬। ৯ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ </ref> টেমপ্লেট:Columns-list

সামরিক ও যৌথ বাহিনী দ্বারা উদ্ধার অভিযানের সময় নিহত পাঁচজন সন্ত্রাসী হল:<ref name="bbc 6Jul"/> টেমপ্লেট:Columns-list

আহতদের মধ্যে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।<ref>"গুলশানে আহত পুলিশের ২৫ সদস্য"। ঢাকা: bdnews24.com। ৪ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৬ </ref> এদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত মহানগরসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও একজন পরিদর্শক।<ref>"আহত ব্যক্তিদের তালিকা"। ঢাকা: প্রথম আলো। ৭ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৬ </ref>

ইতালীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও জিরো বাংলাদেশে আসেন এবং ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি ইতালীয় ৯ ব্যক্তির লাশ নিয়ে ইতালিতে ফিরে যান। ময়নাতদন্তে পাওয়া যায় যে ৯ ইতালীয় নাগরিককে হত্যার আগে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়। মৃত্যুর আগে কয়েকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় ও কয়েকজনের শরীরের অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পরে তারা ধীরে ধীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায়। নয় ইতালীয় নাগরিক "মন্থর ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু" ভোগ করে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।<ref>"'৯ ইতালীয় নাগরিককে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়'"www.poriborton.com। জুলাই ৮, ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ </ref><ref>"গুলশান হামলা: হত্যার আগে ৯ ইতালীয় নাগরিককে নির্যাতন"দেশ টিভি। ৮ জুলাই ২০১৬। </ref>

এই হামলার সাতজন জাপানী নাগরিকের লাশ দেখতে ও তাদের সনাক্ত করার জন্য জাপানি নাগরিকদের স্বজনরা বাংলাদেশে আসেন, তাদের সঙ্গ দেন জ্যেষ্ঠ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেইজি কিহারা। তাদের সাথে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ও দেশটির দাতা সংস্থা জাইকার কয়েকজন কর্মকর্তাও আসেন।<ref>"নিহত জাপানিদের মরদেহ দেখলেন স্বজনরা"সমকাল। ৪ জুলাই ২০১৬। </ref> ঢাকার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় যেখানে জাপানের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবেউ উপস্থিত থাকেন।<ref>"নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, লাশ হস্তান্তর"বাংলা ট্রিবিউন। জুলাই ৪, ২০১৬। </ref> ৫ জুলাই সাত জাপানী নাগরিকের লাশ নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি বিশেষ বিমান জাপানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।<ref>"নিহতদের লাশ এবং আহত জাপানি ঢাকা ত্যাগ নিহত জাপানিদের ব্যক্তিগত তথ্য গণমাধ্যমে না দিতে স্বজনদের অনুরোধ"দৈনিক ইনকিলাব। ৫ জুলাই ২০১৬। </ref>

আইএসআইএস-এর দায় স্বীকার[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ইসলামিক স্টেটের অধিভুক্ত সংবাদ সংস্থা, 'আমাক' এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং ২০ জনকে হত্যার দাবি জানায়। ঘটনার পর তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করে এবং হুমকি দেয় এটি সবেমাত্র শুরু ভবিষ্যতে আরো হামলা হবে। <ref>"গুলশানে হামলার দায় স্বীকার 'আইএসের'"বিডিনিউজ২৪.কম। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৬ </ref>

জাকির নায়েক ও পিস টিভি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আক্রমণের ৫ হামলাকারীর মাঝে একজন ফেসবুকে জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলেন বলে বাংলাদেশী পত্রিকা ডেইলি স্টারে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, "জাকির নায়েকের বক্তব্য আমাদের জন্য একটি নজরদারির বিষয়। আমাদের এজেন্সিগুলো এর উপর কাজ করছে।"<ref>"Government hints action against Islamic preacher Zakir Naik for 'hate speech'"The Economic Times। New Delhi। ৬ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৬ </ref> এর ২ দিন পর মহারাষ্ট্র সরকারের সিআইডি বিভাগ তদন্তের ফলাফল হিসেবে জানায় যে, তারা জাকির নায়েকের বক্তৃতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ খুজে পায় নি।<ref>"State Intelligence Dept. gives clean chit to Naik; no arrest on his return to India"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৬ </ref> ডেইলি স্টার উক্ত বিতর্ক নিয়ে জাকির নায়েকের নিকট ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য করে যে তারা কখনোই নায়েককে উক্ত হামলার জন্য দোষারোপ করে নি।<ref name="dailystar">"The Daily Star protests Dr Naik's claims"The Daily Star (Bangladesh)। ৯ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৬ </ref> পত্রিকাটি বলে যে, এটি শুধুমাত্র এটাই তুলে ধরেছে যে, কিভাবে তরুণরা তার বক্তব্যকে ভুলভাবে বুঝছে।<ref name="dailystar" /><ref>"Bangla paper apologises to Zakir Naik, says never blamed him for attack"Deccan Chronicle। ১১ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৬ </ref><ref>"Zakir Naik fracas: Bangladesh paper denies report used by Indian media to demand ban on preacher"Scroll.in। ১০ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৬ </ref> তবে, এঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকার নায়েকের পিস টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।<ref>http://indianexpress.com/article/world/world-news/bangladesh-bans-televangelist-zakir-naiks-peace-tv-2905038/</ref> তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এর কারণ হিসেবে বলেন যে "পিস টিভি মুসলিম সমাজ, কুরআন, সুন্নাহ, হাদিস, বাংলাদেশের সংবিধান, আমাদের সংস্কৃতি, আচার-প্রথা ও রীতিনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।"<ref name="BBC1" />

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

<references group=""><ref name="bdnews 5Jul">টেমপ্লেট:Cite news</ref>

<ref name="bbc 6Jul">টেমপ্লেট:Cite news</ref>

<ref name="P alo 8Jul">টেমপ্লেট:Cite news</ref></references>

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট