রামনাথ বিশ্বাস

জ্ঞানীপিডিয়া থেকে
রামনাথ বিশ্বাস
চিত্র:রামনাথ বিশ্বাসের চিত্র.jpg
রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড, হিন্দু ট্রাভেলার
জন্ম(১৮৯৪-০১-১৩)১৩ জানুয়ারি ১৮৯৪
মৃত্যু১ নভেম্বর ১৯৫৫(1955-11-01) (বয়স ৬১)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাভূপর্যটক
পিতা-মাতাবিরজানাথ বিশ্বাস
গুণময়ী দেবী

রামনাথ বিশ্বাস (১৩ জানুয়ারি ১৮৯৪ - ১ নভেম্বর ১৯৫৫) একজন ভারতীয় বিপ্লবী, সৈনিক, ভূপর্যটক ও ভ্রমণকাহিনী লেখক।<ref name="bc">সেনগুপ্ত, সুবোধচন্দ্র; বসু, অঞ্জলি, সম্পাদকগণ (জানুয়ারী ২০০২)। "রামানাথ বিশ্বাস"। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। প্রথম খন্ড (চতুর্থ সংস্করণ)। কলকাতা: শিশু সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৪৮৪–৪৮৫। আইএসবিএন 81-85626-65-0 </ref> তিনি ১৯৩৬ ও ১৯৩৭ সালে সাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন।<ref name="dh">"বাইসাইকেলে বিশ্বজয়ী বানিয়াচংয়ের রামনাথ বিশ্বাস"ডেইলি হবিগঞ্জ। ১৬ মে ২০১৩। ১৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ </ref>

প্রথম জীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রামনাথ ১৮৯৪ সালের ১৩ জানুয়ারি অসমের সিলেট জেলার বানিয়াচং গ্রামের বিদ্যাভূষণপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন;<ref name="dh"/> যা বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। তার পিতার নাম বিরজানাথ বিশ্বাস ও মাতার নাম গুণময়ী দেবী। বাল্যকালে তিনি বানিয়াচঙ্গের হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পিতার মৃত্যুর কারণে তার বিদ্যালাভের ইতি ঘটে।<ref name="dh"/>

কর্মজীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রামনাথ হবিগঞ্জের জাতীয় ভান্ডার সমিতির ম্যানেজার পদ যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। জাতীয় ভান্ডার সমিতির মোটর কারখানা থাকার সুবাদে তিনি মোটর চালনা শিক্ষা করেন। এখানে থাকাকালীন তিনি সাইকেল চালনারও সুযোগ পান এবং তাতে তিনি বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠেন।<ref name="dh"/> এরপর তিনি জাতীয় ভান্ডার সমিতির কাজ ছেড়ে অন্য একটি চাকুরীতে যোগ দেন। এই সময়েই তিনি গোপনে অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন। কিন্তু তার বিপ্লবী যোগ প্রকাশ হয়ে গেলে তিনি চাকুরী থেকে বহিষ্কৃত হন। ইতিমধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। বাঙালি পল্টনের সঙ্গে তিনি মেসোপটেমিয়ায় যান।<ref name="bc"/> ১৯২৪ সালে তিনি মালয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর একটি চাকরিতে যোগ দেন।<ref name="bc"/>

বিশ্বভ্রমণ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযাত্রা (১৯৩১-৩৩)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রামনাথ সাইকেলে প্রথম বিশ্বযাত্রা করেন ১৯৩১ সালে। সঙ্গে এক জোড়া চটি, দু'টি চাদর ও তার সাইকেল। সাইকেলের কেরিয়ারে একটি বাক্সে সাইকেল মেরামতির সরঞ্জাম। সাইকেলের গায়ে লেখা 'রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড, হিন্দু ট্রাভেলার।'<ref name="se">আউয়াল, সেলিম (৪ আগস্ট ২০১৩)। "সাইকেলে রামনাথের বিশ্বভ্রমণ"sylhetexpress.com। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ </ref> ৭ জুলাই ১৯৩১ রামনাথ সিঙ্গাপুরের কুইন স্ট্রীট থেকে এই বিশ্বযাত্রা শুরু করেন।<ref name="se"/> সিঙ্গাপুরে চাকুরীরত প্রবাসী ভারতীয়রা রামনাথকে সেদিন শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। সাইকেলে চড়ে তিনি মালয়, শ্যাম, ইন্দোচীন, চীন, কোরিয়া, জাপান হয়ে কানাডায় পৌঁছান। ১৯৩৪ সালে তিনি গ্রামে ফিরলে গ্রামবাসীরা বানিয়াচঙ্গের ঐতিহাসিক এড়ালিয়া মাঠে এক বিশাল সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় রামনাথ তার বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে 'বানিয়াচঙ্গকে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম' বলে উল্লেখ করেন।<ref name="djb">"ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস এর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা"দৈনিক জাগো বাংলা। ১ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১৫ </ref>

দ্বিতীয় বিশ্বযাত্রা (১৯৩৪-৩৬)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

১৯৩৪ সালে রামনাথ দ্বিতীয়বার বিশ্বযাত্রা করেন।<ref name="se"/> সেবার তিনি আফগানিস্তান, পারস্য, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, যুগোস্লাভিয়া, হাঙ্গেরী, অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, জার্মানি, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স হয়ে বৃটেন পৌঁছান। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডও তিনি সাইকেলে পরিভ্রমণ করেন। এই যাত্রায় তার শরীর ভেঙে গিয়েছিল। ১৯৩৬ সালে তিনি লন্ডন থেকে জাহাজে পোর্ট সৈয়দ হয়ে মুম্বই প্রত্যাবর্তন করেন। সুস্থ হয়ে তিনি শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর কাছে যান।

তৃতীয় বিশ্বযাত্রা (১৯৩৬-৪০)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রামনাথ তৃতীয়বার বিশ্বযাত্রা করেন ১৯৩৮ সালে। সেবার তিনি আফ্রিকা মহাদেশে পাড়ি দেন। মুম্বই থেকে তিনি জাহাজে মোম্বাসায় পৌঁছে সেখান থেকে সাইকেল যাত্রা শুরু করেন। তিনি কেনিয়া, উগান্ডা, নায়াসাল্যান্ড, রোডেসিয়া হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান। এখান থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান; কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ভালো লাগেনি। তিনি ১৯৪০ সালে দেশে ফিরে আসেন।

শেষ জীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলে অসমের সিলেট জেলা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। রামনাথ বানিয়াচঙ্গেই থেকে যান। কিন্তু তিনি তার ভ্রমণকাহিনী নিয়ে বই প্রকাশ করতে চাইলে কোন প্রকাশক এগিয়ে আসেনি। অগত্যা তিনি নিজেই পর্যটক প্রকাশনা ভবন নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা খুলে নিজের বই প্রকাশ করতে শুরু করেন। এর পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের পাট চুকিয়ে দিয়ে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে যান।

রচিত গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

কলকাতায় বসবাসকালে রামনাথের ভ্রমণকাহিনী আনন্দবাজার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হত। পরে তা গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা তিরিশের উপর।<ref name="bc"/> এগুলো মধ্যে রয়েছে:

  • অন্ধকারের আফ্রিকা
  • আজকের আমেরিকা
  • জুজুৎসু জাপান
  • তরুণ তুর্কী
  • দুরন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা
  • নিগ্রো জাতির নতুন জীবন
  • প্রশান্ত মহাসাগরে অশান্তি
  • বেদুইনের দেশে
  • ভবঘুরের বিশ্বভ্রমণ
  • ভিয়েতনামের বিদ্রোহী বীর
  • মরণবিজয়ী চীন
  • মাও মাওয়ের দেশে
  • মালয়েশিয়া ভ্রমণ
  • লাল চীন
  • বিদ্রোহী বলকান
  • সর্বস্বাধীন শ্যাম
  • হলিউডের আত্মকথা
  • ট্যুর রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড উইদাউট মানি (Tour Round The World Without Money)

আরও দেখুন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

<references group=""></references>