শহীদুল জহির

জ্ঞানীপিডিয়া থেকে
শহীদুল জহির
চিত্র:শহীদুল জহির.jpg
শহীদুল জহির
উচ্চারণচিত্র:LL-Q9610 (ben)-Bodhisattwa-শহীদুল জহির.wav
জন্ম
মোহাম্মদ শহীদুল হক

(১৯৫৩-০৯-১১)১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩
মৃত্যু২৩ মার্চ ২০০৮(2008-03-23) (বয়স ৫৪)
ঢাকা, বাংলাদেশ
সমাধিশহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, মিরপুর
২৩°৪৭′৩৯″ উত্তর ৯০°২০′৪২″ পূর্ব / ২৩.৭৯৪২৫° উত্তর ৯০.৩৪৪৯৪° পূর্ব / 23.79425; 90.34494
Fatal error: The format of the coordinate could not be determined. Parsing failed.


জাতীয়তা
অন্যান্য নামশহীদুল হক
মাতৃশিক্ষায়তন
পেশা
  • ঔপন্যাসিক
  • লেখক
  • সরকারি কর্মকর্তা
কর্মজীবন১৯৮৫–২০০৮
পরিচিতির কারণবাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা
উল্লেখযোগ্য কর্ম
সৃষ্টিকর্ম
পুরস্কারনিচে দেখুন

শহীদুল জহির (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ - ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং সরকারি আমলা। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার স্বাতন্ত্র্য চর্চার জন্য তিনি পরিচিত। নিত্যনতুন ভাষাবিন্যাস এবং রীতি-ব্যবহারে গল্প বলার কৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যোগ করেছেন স্বতন্ত্র রীতি পদ্ধতি, যা "শহীদুল জহিরীয়" ধারা নামে পরিচিত।

তিনি চারটি উপন্যাস এবং তিনটি গল্প সংকলন প্রকাশ করেছেন। আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু (২০০৯) তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের একটি, যেটি ২০১০ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার জেতে। এছাড়াও জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা (১৯৮৮), সে রাতে পূর্ণিমা ছিল (১৯৯৫) এবং মুখের দিকে দেখি (২০০৬) উপন্যাসগুলো বাংলা সাহিত্যে অনন্য সংযোজন বলে বিবেচিত হয়। বাংলা ছোটগল্পে তিনি যুক্ত করেছেন নতুন মাত্রা। পারাপার (১৯৮৫), ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প (২০০০), এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) তার উল্লেখযোগ্য গল্প সংকলন। তার রচিত গল্পসমূহ ব্যভপকভাবে আলোচিত এবং বিশ্লেষিত হয়েছে। "ভালবাসা" (১৯৭৪), "পারাপার" (১৯৭৫), "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" (১৯৯১), "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" (১৯৯২), "কাঁটা" (১৯৯৫), "চতুর্থ মাত্রা" (১৯৯৮), "কোথায় পাব তারে" (১৯৯৯), * "ডলু নদীর হাওয়া" (২০০৩) প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য গল্প।

জীবদ্দশায় সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার এবং কাগজ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার সাহিত্যচর্চার বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। তার রচিত গল্প ও উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছে একাধিক চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং মঞ্চনাটক।

প্রাথমিক ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

তিনি ১৯৫৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে (ভজহরি সাহা স্ট্রিট) জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তার নাম ছিল মোহাম্মদ শহীদুল হক। তার পিতা এ কে নুরুল হক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তার চার ভাই ও চার বোন ছিল এবং তাদের পৈতৃক নিবাস ছিল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাশিল গ্রামে।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৩">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৩।</ref> তার দাদা জহিরউদ্দিন ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তার দাদির নাম ছিল জিন্নাতুন নেসা। শহীদুল তার নামের জহির অংশটি তার দাদার নাম থেকে নিয়েছিলেন।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref> জহিরের পিতার শৈশবে তারা মারা যান। তার নানা ছিলেন সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়ার আজিমুদ্দিন আহমেদ ও নানি হামিদা বেগম। এই স্থানগুলি এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া যেখানে তিনি প্রায়ই বেড়াতেন। এসকল স্থানগুলো তার মনে চেতনে-অবচেতনে গভীর ছাপ রাখে এবং পরবর্তীতে তার সাহিত্যকর্মে স্থানগুলির উল্লেখ পাওয়া যায়।

১৯৫৭ সাল পর্যন্ত জহির পিতার কর্মস্থলে কারণে কুমিল্লার চাঁদপুরে কাটান। সে বছরই তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভজহরি সাহা স্ট্রিটে ফিরে আসেন। এসময় তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলেন।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৫">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৫।</ref> ১৯৯০ সালে তার বাবা মারা যান এবং এরপর থেকে তার মা ঢাকায় ভাইবোনদের সাথে থাকেন। কবি সমুদ্র গুপ্ত তার চাচাতো ভাই।<ref name="সাহিত্যপ্রতিভা" group=""></ref>

জহির তার বিদ্যালয় জীবন শুরু করেছিলেন ঢাকার ৩৬ র‍্যাঙ্কিন স্ট্রিটের সিলভারডেল কেজি স্কুলে। সেখানে তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পড়েছিলেন।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৩">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৩।</ref> পরবর্তীতে ঢাকার নারিন্দায় সেন্ট যোসেফ টেকনিক্যাল বিদ্যালয়ে এক বছর পড়েন। ১৯৬৩ সাল তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এরপর ঢাকার বাইরে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত পড়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া হাই স্কুলে। পরবর্তী বছর, অষ্টম শ্রেণীতে জহির চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখানে তিনি সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। একই বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে মানবিক বিভগ থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চ মার্ধমিকের পড়ার জন্য জহির পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকবর্ষে ভর্তি হন। তিনি ১৯৭৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৩">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৩।</ref><ref name="মুসলিম" group=""></ref> ঢাকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি।<ref name="টিপু" group=""></ref>

পরবর্তীতে জহির দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণের পূর্বে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা থেকে ফরাসি ভাষা বিষয়ে ডিপ্লোমা করেছিলেন। ১৯৯১ সালের আগস্টে তিনি মার্কিন যুক্টরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি.র আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করতে যান। সেখানে তিনি ১৯৯২ সালের জুনে নন-ডিগ্রি সার্টিফিকেট ইন প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিগ্রি নেন। ২০০১ সালের জুনে তিনি ইউনিভার্সি অব বারমিংহাম থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছিলেন।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৪">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৪।</ref>

কর্মজীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি জহির বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদান করেন। সেখানে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে তিন বছর কর্মরত ছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও পরিবহন বিভাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস সহকারি সচিব পদে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারি সচিব পদে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে সচিব পদে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে যোগ দেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপ-পরিচালক পদেও নিয়োজিত ছিলেন তিনি।<ref name="মুসলিম" group=""></ref> পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব, এবং পুনরায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে উপসচিব হিসেবে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন। সে বছরই জহির বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়কালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপসচিব হিসেবে নিযোগ পান। ২০০৩ থেকে পরবর্তী দুই বছর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে যোগ দেন জহির। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের বীমা বিভাগে তিনি প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রক পদে কিছুকাল কাজ করেন। একই বছরের শেষের দিকে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে নিযুক্ত ছিলেন।<ref name="FOOTNOTEরশীদ২০১৯২০৪">রশীদ ২০১৯, পৃ. ২০৪।</ref>

২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে নিযুক্ত ছিলেন।<ref name="মুসলিম" group=""></ref>

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

শহীদুল জহির ছিলেন চিরকুমার। কথা ম্যাগাজিনের সম্পাদক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি এটি ব্যাখ্যা করতে অক্ষম, "আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না, এটা এমনিতেই ঘটে গেছে।"<ref name="autogenerated1">"New Age Xtra"। ৪ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৬ </ref> তিনি কম কথা বলতেন এবং অন্তর্মুখী ছিলেন। তার সাথে বন্ধুত্ব করা কঠিন ছিল তবে তিনি অনেক বন্ধুসুলভ ছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

২০০৮ সালের ২৩ মার্চ তিনি ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগে মার্চের ২১ তারিখ তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারে ভর্তি হন।<ref name="bdnews24-dies" group=""></ref> তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সামধিস্থ করা হয়।

সাহিত্যকর্ম ও শৈলী[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

শহীদুল জহির তার গল্পে জাদুবাস্তববাদী পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন।<ref name="জাদুবাস্তবতা-যাযাদি" group=""></ref> তিনি সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে লেখালেখি শুরু করেন।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref> তার প্রথম প্রকাশিত গল্প "ভালবাসা" (১৯৭৪), যেখানে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রভাব স্পষ্ট।<ref name="FOOTNOTEহোসেন২০১৭১১৭">হোসেন ২০১৭, পৃ. ১১৭।</ref> ১৯৮৩ সালে পূর্বাণী বোনাস সংখ্যায় উড়াল শিরোনামে তার একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এটি মরণোত্তর গ্রন্থে সংকলিত হলেও জহির এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন নি। ১৯৮৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ পারাপার প্রকাশিত হয়।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref> বলা হয় যে লাতিন আমেরিকার লেখকদের লেখার জাদুবাস্তবতার ছোঁয়া তার লেখায় রয়েছে।<ref name="FOOTNOTEহাসান২০২০৫১">হাসান ২০২০, পৃ. ৫১।</ref> এবং তাকে বাংলাদেশের গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মার্কেস বলা হয়।<ref name="autogenerated1" group=""></ref> তিনি স্বীকার করেছেন যে দুইজন সমসাময়িক ঔপন্যাসিক সৈয়দ শামসুল হকআখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ দ্বারা তিনি প্রভাবিত।<ref>"ITTEFAQ.COM"। ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৬ </ref> তার প্রথমদিককার রচিত কিছু গল্পের কাহিনী মার্ক্সবাদের প্রভাব বহন করে। ১৯৮৮ সালে তার প্রথম উপন্যাস জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রকাশিত হয়। যার উপজীব্য ছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত। যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যবহার করেছেন।<ref name="সাহিত্যে" group=""></ref> এছাড়াও তার "" (১৯৯৫), "মহল্লায় বান্দর, আব্দুল হালিমের মা এবং আমরা" (২০০০) এবং "ইন্দুর-বিলাই খেলা" (২০০২) গল্পগুলিতে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তার ভাবনা, জিজ্ঞাসা ও শিল্পাভিব্যক্তি ফুটে ওঠে।<ref name="হাবিব" group=""></ref>

জহিরের ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যে ভিন্ন ধারা যুক্ত করছে।<ref name="FOOTNOTEহাসান২০২০৫১">হাসান ২০২০, পৃ. ৫১।</ref> তার গল্পের চরিত্রগুলোর অদ্ভুত-উদ্ভট-রহস্যময় কাণ্ড-কীর্তি একধরনের বিমূঢ় অনুভূতি সৃষ্টি করে। যেমন তার "ডলু নদীর হাওয়া" (২০০৩) গল্পের চরিত্র তৈমুর আলি চৌধুরী একটি শর্ত বা চুক্তি মেনে নিয়ে মগকন্যা সমর্তবানু ওরফে এলাচিংকে বিয়ে করে। চুক্তিটি হলো, সমর্ত তাকে জহর (বিষ) দিয়ে মারবে। এখানে তিনি প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের পরস্পরবিরোধীতা দেখিয়েছেন।<ref name="আলো-কামাল" group=""></ref> অন্যদিকে ২০০৬ সালে প্রকাশিত তার মুখের দিকে দেখি উপন্যাসের এক চরিত্র মামুন মিঞা বালক বয়সে করাতকলে কাঠের ভূষি আনতে গিয়ে চোরাই সারের ট্রাকে করে চট্টগ্রামে পাচার হয়ে যায়। সেখানে শিশু আসমানতারার খরগোশ হিসেবে খাঁচায় বন্দী অবস্থায় তার অন্য জীবন শুরু হয়। একই সময়ে একই চরিত্র মামুন তার পুরান ঢাকার বাড়িতে ফিরে এসে তার স্বাভাবিক জীবন কাটাতে শুরু করে।<ref name="আলো-কামাল" group=""></ref> এখানে জহির ভিন্ন বাস্তবতায় একই ব্যক্তির দুটি সমান্তরাল জীবনের মধ্য দিয়ে সময় ক্ষেত্রের ইঙ্গিত করেছেন। তিনি

কিছু ইংরেজি গল্পও অনুবাদ করেছেন। তার কিছু অপ্রকাশিত কবিতাও রয়েছে। এছাড়াও বাংলা কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন তিনি।<ref name="autogenerated2" group=""></ref> তার একটি কবিতার দুইলাইন হল:

... তবুও আমরা আরও একবার সমবেত হলাম,
আর আমাদের সময়ের মাধ্যমে একটি কুঁড়ি ফুলে পরিণত হয়,
একটি রূপালি রূপচাঁদা নোনা পানিতে ভাসে ... 

— শহীদুল জহির, <ref name="autogenerated2" group=""></ref>

জহিরের কিছু অপ্রকাশিত চিঠি মৃত্যুুর পর বিভিন্ন সংকলন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সে সকল চিঠি থেকে ব্যক্তি জহিরের অচাঞ্চল্যকর চারিত্রিক বৈশিষ্ট ধরা পরে। কিছু চিঠিতে, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের অভ্যন্তরে কাজ করা স্বত্তেও সে বিষয়ে তার নির্মোহ মূল্যায়ন নজরে আসে।<ref name="আলো-রশীদ" group=""></ref>

পারাপার[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

পরবর্তীতে নাম বদলালেও জন্মনাম শহীদুল হক নামেই প্রথম গ্রন্থ পারাপার লিখেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জহির বলেন, সে সময়ে অন্য শহীদুল হক নামধারী লেখকদের সঙ্গে তার পরিচয়ে ভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে তিনি নাম পরিবর্তন করেন। পারাপার শহিদুলের প্রথম গল্পগ্রন্থ, তার মতে যেটির গল্পগুলি অনেকটা প্রথাগত গঠনে লেখা, যার প্রতিটি গল্পে স্বাতন্ত্র্যে স্বর-বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref> কালি ও কলমের এক পর্যালোচনায় রীতি বা কাঠামোগত দিকের বিচার অনুমানে পারাপার আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পগ্রন্থ চলো যাই পরোক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থে "পারাপার" শিরোনামে একটি গল্প রয়েছে। যেখানে প্রতীকীর মাধ্যমে শ্রেণিশত্রু নিপাতের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। তার প্রথম প্রকাশিত গল্প "ভালবাসা" এ গ্রন্থে যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পুরোদস্ত্তর মনস্তাত্ত্বিক গল্প "মাটি ও মানুষের রং"। অন্যান্য গল্পের মধ্যে রয়েছে "তোরাব শেখ", পুরনো ঢাকার প্রেক্ষাপট রচিত "ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে"।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref>

সমালোচনা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত জহিরের অভিষেক গল্প সংকলন পারাপার-এর অধিকাংশ গল্পের কাঠামোগত দিক বিচারে অনেকটা আবদুল মান্নান সৈয়দের ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত চলো যাই পরোক্ষে গল্পগ্রন্থের সঙ্গে মিল থাকলেও জহিরের একে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।<ref name="আহ্মদ" group=""></ref> তার ২০০৪ সালে প্রকাশিত ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প সম্পর্কে আবদুল মান্নান সৈয়দ মন্ব করেন: "ওয়ালীউল্লাহর প্রত্যক্ষে-পরোক্ষে উপস্থিতি সত্বেও শহীদুল জহির নতুন কিছু করেছেন। এখানেই তার স্বকীয় কৃতিত্ব"।<ref name="সৈয়দ-খেয়া" group=""></ref><ref name="সৈয়দ-থিয়েটার" group=""></ref> জহিরের গদ্যে সৈয়দ শামসুল হকের প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও কমলকুমার মজুমদার, জেমস জয়েসআখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রভাবও লক্ষনীয়। একসকল প্রভাবের মধ্য দিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন স্বতন্ত্র ধারা, যা "শহীদুল জহিরীয় ধারা" হিসেবে পরিচিত।<ref name="হোসেন" group=""></ref><ref name="পাশা" group=""></ref>

সৃষ্টিকর্ম[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

জীবদ্দশায় জহিরের তিনটি উপন্যাস ও তিনটি গল্পগ্রন্থ এবং দুইটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।<ref>"দৈনিক সংবাদ"thedailysangbad.com। ২০১৬-০৩-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৪-১২ </ref> তার মৃত্যুর পরবর্তী বছর ২০০৯ সালে সর্বশেষ উপন্যাস প্রকাশিত হয়। জীবদ্দশায় প্রকাশিত তিনটি গল্প সংকলনে সর্বমোট ১৯টি গল্প প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলি ১৯৭৪ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে রচিত। এর মধ্যে পুরান ঢাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৫ সালে রচিত "আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস" গল্পটি জহিরের ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প শিরোনামে দ্বিতীয় এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) শিরোনামে তৃতীয় গল্প সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও মৃত্যুর পর একাধিক সংকলন গ্রন্থে সর্বমোট সাতটি অপ্রকাশিত ও অগ্রন্থিত গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

চলচ্চিত্র তালিকা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মূল গল্পের রচয়িতা

টেলিভিশন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মূল গল্পের রচয়িতা
  • চতুর্থ মাত্রা (২০০১)
  • কোথায় পাব তারে
  • কাঁটা (২০১০)
  • আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই (২০১২)

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

শহীদুল জহিরের একাধিক গল্প অবলম্বনে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক এবং স্বল্প ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার ১৯৯৩ সালে রচিত "এই সময়" গল্পের উপর ভিত্তি করে ২০০২ সালে আশিক মোস্তফা ফুলকুমার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। একই গল্প থেকে নাটক নির্মাণ করেছেন ইকবাল খোরশেদ।<ref name="মজিদ" group=""></ref> গল্পটি ১৯৯৯ সালে "ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প" সংকলনে প্রকাশিত হয়। জহিরের ১৯৯৫ সালে রচিত মনোজগতের গল্প "কাঁটা" অবলম্বনে টোকন ঠাকুর একই শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।<ref name="মাহমুদ" group=""></ref> ১৯৮৫ সালে পারাপার সংকলনে প্রকাশিত ১৯৭৪ সালে রচিত জহিরের প্রথম গল্প "ভালবাসা" অবলম্বনে একই শিরনামে শুভ্রা গোস্বামী একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন, যেখানে অভিনয়ে ছিলেন দীপক সুমন ও মৌসুমী হামিদ।<ref name="সাজু" group=""></ref>

একই গল্প নিয়ে রেদওয়ান রনির নির্দেশনা ও ইকবাল হোসাইন চৌধুরীর নাট্যরূপে নির্মিত হয়েছে টেলিভিশন নাটক ফুল।<ref name="মজিদ" group=""></ref> ১৯৯১ সালে রচিত জাদুবাস্তবতাবাদী গল্প হিসেবে পরিচিত, "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্প থেকে ২০১২ সালে টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেছেন জাহিন জামাল, যেটি চ্যানেল নাইনে প্রচারিত হয়েছিল।<ref name="আগারগাঁও" group=""></ref> গল্পটি ১৯৯৯ সালের ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে রচিত "চতুর্থ মাত্রা" গল্প থেকে ২০০১ সালে একই শিরনামে নুরুল আলম আতিক টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেন। জহিরের ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প বইয়ে সংকলিত, ১৯৯৯ সালে রচিত "কোথায় পাব তারে" গল্প অবলম্বনে দুটি নাটক নির্মিত হয়েছে। একটি দীপংকর দীপন পরিচালিত টেলিভিশন নাটক, যেটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সারা জাকের। অন্যটি রচনা এবং পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।<ref name="মজিদ" group=""></ref> এছাড়াও কাঁটা গল্প অবলম্বনে ২০১০ সালে একটি টেলিভিশন চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন অনিমেষ আইচ।<ref name="DS-Victory" group=""></ref>

তার ১৯৯২ সালে রচিত "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" গল্প থেকে দেশ নাট্যদল "জন্মে জন্মান্তর" নামে মঞ্চনাটকও প্রযোজনা করেছে। এছাড়াও তার ১৯৯৫ সালের উপন্যাস সে রাতে পূর্ণিমা ছিল থেকে রেজা আরিফের নির্দেশনায় মঞ্চনাটক প্রযোজনা করেছে নাট্যদল আরশীনগর।<ref name="মজিদ" group=""></ref>

পুরস্কার[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

পুরস্কারের তালিকা
সংগঠন অনুষ্ঠানের তারিখ বিভাগ বই ফলাফল সূত্র
আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৪ উপন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান বিজয়ী <ref name="মিজান, মীম">মিজান, মীম (১৯ অক্টোবর ২০১৮)। "শহীদুল জহির : বাংলা গদ্য সাহিত্যে নব্য ধারার প্রবর্তক"। সোনার দেশ। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ </ref>
কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৪ কথাসাহিত্য ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) বিজয়ী <ref name="জেমকন-২০১৫" group=""></ref><ref name="জেমকন-২০২০" group=""></ref>
প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ২০১০ বর্ষসেরা বই আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু (২০০৯) বিজয়ী মরণোত্তর<ref>"আজ প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার বিতরণ" </ref>

আরো পড়ুন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

<references group=""><ref name="আলো-কামাল">কামাল, আহমাদ মোস্তফা (২২ মার্চ ২০১৯)। "অনন্য শহীদুল জহির"ঢাকা: দৈনিক প্রথম আলো। ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১৪ </ref>

<ref name="আহ্মদ">আহ্মদ, আশরাফ উদ্দীন (২৪ জুন ২০১৪)। "শহীদুল জহির : পারাপারের বিষয়বৈচিত্র্য"। প্রবন্ধ। কালি ও কলম। ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০২০ </ref>

<ref name="টিপু">টিপু, মাহবুব। "শহীদুল জহির ও গভীরভাবে অচল মানুষের ভার"। রাইজিংবিডি.কম। ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="পাশা">পাশা, হারুন (১ এপ্রিল ২০১৬)। "শহীদুল জহির ও ডলু নদীর হাওয়া"ভোরের কাগজ। ৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="মজিদ">মজিদ, পিয়াস (২৮ জুলাই ২০১৪)। "একজন অন্যবিধরোদে পোড়াশহীদুল জহির"ঢাকা: ইত্তেফাক। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="autogenerated1">"New Age Xtra"। ৪ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৬ </ref>

<ref name="মুসলিম">মুসলিম, সৈয়দ নাকিব (৩ এপ্রিল ২০০৮)। "Shahidul Zahir: An exceptional public servant"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="মাহমুদ">মাহমুদ, রাসেল (২০১৮-০৯-২৭)। "কী অবস্থায় কোটি টাকার 'কাঁটা'"প্রথম আলো। ২০২০-০১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-২৮ </ref>

<ref name="আলো-রশীদ">রশীদ, মোহাম্মদ আবদুর (২২ মার্চ ২০১৯)। "শহীদুল জহিরের অপ্রকাশিত চিঠি"ঢাকা: দৈনিক প্রথম আলো। ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="সাজু">সাজু, শাহ আলম (৮ ডিসেম্বর ২০১৮)। "Moushumi Hamid in 'Bhalobasha'"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ৯ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="সৈয়দ-থিয়েটার">সৈয়দ, আবদুল মান্নান (জুন ২০০৮)। "শহীদুল জহিরের গল্প"থিয়েটারওয়ালা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="সৈয়দ-খেয়া">সৈয়দ, আবদুল মান্নান (৪ এপ্রিল ২০০৮)। "শহীদুল জহিরের গল্প"। কালের খেয়াদৈনিক সমকাল  </ref>

<ref name="হাবিব">হাবিব, তাশরিক-ই- (২ জানুয়ারি ২০১৭)। হাসনাত, আবুল, সম্পাদক। "শহীদুল জহিরের তিনটি গল্পে জাদুবাস্তবতার অন্বেষণ"কালি ও কলমঢাকা: আবুল খায়ের। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="হোসেন">হোসেন, মোজাফফর (১৬ অক্টোবর ২০১৭)। "শহীদুল জহিরের প্রবণতা ও স্বকীয়তা"বাংলা ট্রিবিউন। ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="আগারগাঁও">"শহীদুল জহিরের গল্প নিয়ে নাটক"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৬ ডিসেম্বর ২০১২। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="সাহিত্যপ্রতিভা">"শহীদুল জহির : মননশীল সাহিত্যপ্রতিভা"দৈনিক আজাদী। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="জাদুবাস্তবতা-যাযাদি">সালেহ উদদীন, সালাম (২৯ মার্চ ২০১৯)। "জাদুবাস্তবতা সাহিত্যে এর প্রয়োগ"যায়যায়দিন। ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ </ref>

<ref name="সাহিত্যে">মিত্র, অমর (১৯ নভেম্বর ২০১৭)। "সাহিত্যে দাগ রেখে গেছেন শহীদুল জহির"এনটিভি। ৫ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="bdnews24-dies">"Writer Shahidul Zahir dies"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৩ মার্চ ২০০৮। ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="DS-Victory">"Victory Day specials on TV channels"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৬ ডিসেম্বর ২০১০। ৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ </ref>

<ref name="জেমকন-২০১৫">"জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫"দৈনিক যুগান্তর। ১৭ এপ্রিল ২০১৫। ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ </ref>

<ref name="জেমকন-২০২০">"জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ ঘোষণা"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৬ ডিসেম্বর ২০২০। ৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ </ref>

<ref name="autogenerated2">"দৈনিক সংবাদ"thedailysangbad.com। ২০১৬-০৩-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৪-১২ </ref></references>
উৎস

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]